সময়ের সাথে বদলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই সময়ের টানে লিটল ম্যাগাজিন যখন হারিয়ে যেতে বসেছে, ঠিক সেই সময়টাতে পালটে দেবার প্রত্যয়ে অনলাইনে যাত্রা শুরু করেছে বীক্ষণ। অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের বাংলা ওয়েব সাইট থাকলেও ভালো কোন সাহিত্য পত্রিকা নেই। বীক্ষণ এক্ষেত্রে একটি ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ।

বীক্ষণ’ মূলত সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা। এই পত্রিকায় বিভাগ আছে পাঁচটি-প্রর্তক্য, কবিতা, গল্প, নিবন্ধ, মনের ঘুড়ি। গল্প আর কবিতার পাশাপাশি প্রর্তক্য বিভাগে আছে সমসাময়িক চিন্তাভাবনা নিয়ে লেখা। তবে মনের ঘুড়ি বিভাগটিকে আপনি কোন ফ্রেমে বাঁধতে পারবেন না। এই বিভাগটিতে আছে ‘যেমন ইচ্ছে তেমন…’ (অবশ্যই প্রকাশযোগ্য) ধরনের কিছু লেখা।

বীক্ষণের লেখকদের মাঝে বেশির ভাগই পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালী। পাশাপাশি আনোয়ার সাদাত শিমুল, জাভেদ আকতার, কাজি জহিরুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী লেখক ও কবি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সীমানার বেঁড়াজাল পেরিয়ে বীক্ষণ হয়ে উঠছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্র।

এবার দেখা যাক বীক্ষণের পেছনে কারা কাজ করছেন। পত্রিকাটির যাবতীয় পরিকল্পনা ও নকশা করেছেন সুচেতা মিশ্র। পত্রিকাটি সম্পাদনার গুরুদায়িত্বটিও তিনিই পালন করছেন। এ কাজে তাকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন অভিজিৎ মজুমদার। ওয়েব সাইটটি যিনি তৈরি করেছেন তার সম্পর্কেও মজার তথ্য পাওয়া গেলো পত্রিকাটির ‘আমাদের কথা’ বিভাগ থেকে। এই ওয়েব সাইটের নির্মাতা মু. নূরুল হাসান ওয়েব সাইট নির্মাণের কাজ খুব একটা ভালো পারতেন না। তিনি কাজ শিখতে শিখতে এই সাইটটি তৈরি করেছেন। বর্তমানে সাইটটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তার কাঁধে। সাইটটি বেশ পরিচ্ছন্ন, কোথাও অপ্রোয়জণীয় গ্রাফিক্সের বাড়াবাড়ি নেই। তাই সাহিত্য পিপাসু যে কোন মানুষেরই সাইটটি ভালো লাগবে। সাইটটি দেখে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাংলা ভাষাভাষি মানুষ তাদের মতামত জানিয়েছেন। কানাডার টরেন্টো থেকে কাঞ্চন সরকার সাইটটি সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন-‘ কোথায় যেন একটা নিরাভরণ ঋজুতা আছে, যেটা ছোট ম্যাগাজিনের জন্য খুব দরকার।’

এ পর্যন্ত বীক্ষণের দুটি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছে। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে। দ্বিতীয় সংখ্যাটি এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশের কথা থাকলেও কিছুটা বিলম্বে এ বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয়। তৃতীয় সংখ্যাটি আগষ্টে বের হবার কথা থাকলেও এখনও বের হয়নি। কথা দিয়ে কথা না রাখতে পারলেও আশা করা যায় খুব শীঘ্রই তারা একটি মননশীল সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই বিলম্বের যন্ত্রণাটুকু পূরণ করে দেবেন। গত সংখ্যাটিতে এমন প্রতিশ্রুতির ছাপ পাওয়া গেলো। আর্কাইভে প্রতিটি সংখ্যায় সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা আছে। তাই আপনি পুরাতন সংখ্যার লেখাও পড়তে পারবেন।

লেখা পড়ার পাশাপাশি বীক্ষণে যে কেউ লেখা পাঠাতে পারবেন। তবে লেখাটি মৌলিক এবং অপ্রকাশিত (প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইন্টারনেট) হতে হবে। লেখাটি নির্বাচিত হলে তা ঘষে মেজে প্রকাশ করা হবে পরবর্তী সংখ্যায় । কবিতা ছাড়া অন্য কোন লেখা অবশ্যই বাংলায় টাইপ করে পাঠাতে হবে। ইউনিকোড বাংলায় টাইপ করার সুবিধার্থে ওয়েব ভিত্তিক কি-বোর্ডও রয়েছে সাইটটিতে।

একুশ শতকের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটির নাম ইন্টারনেট। আপনি যেকোন পেশা বা নেশার মানুষ হন না কেন আপনাকে অন্তঃজালে বাঁধা পড়তেই হবে।এর সবচেয়ে বড় উদাহরন হচ্ছে বীক্ষণ। সাহিত্য চর্চার জন্য ইন্টারনেটে এমন একটি প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

ওয়েব সাইটঃ http://www.beekkhan.com/index.html