ঐ দূর পাহাড়ের ওপারে হারিয়ে গেছে সূর্যটা।
মেঘের মুকুট পড়া, এখন গোধূলি বেলা।
চারপাশে অজস্র কবিতার আনাগোনা,
এই আমি এখন আমার কাছেই খুব অচেনা।
মায়াহ্রদের দর্পণে অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব,
কে এই আমি?
অচেনা প্রতিবিম্বের মাঝে হাত ভিজিয়ে দিয়ে ভাবি,
ওই দূর পাহাড়ের বাঁকটা পার হলেই অন্য পৃথিবী,
দাঁড়িয়ে আছে আমার অপেক্ষায়।
একটু একটু করে এ পৃথিবী ছেড়ে এগিয়ে যাই
সেই অন্য পৃথিবীতে।
পাহাড়ের মাথায় সন্ধ্যার মেঘমালা,
একটা অচেনা সরু পথ
ক্লান্তিহীন পথিকের মতো
পৌছে গেছে মেঘের দেশে।
মেঘেরা হাত বাড়িয়ে বলে,
চলে এসো আমাদের কাছে।
আমার ভীষণ ইচ্ছে হয়…
সেই পথে হেঁটে যাই মেঘের দেশে।
পা বাড়াই…
কে যেন হাত চেপে ধরে,
পাগল হয়েছো?
এখন সময় নেই…
যাওয়া হয় না।
ইঞ্জিনের একঘেঁয়ে শব্দে সেই পৃথিবী বিরক্ত হয়,
বিদায় জানায়।
সরু সেই পাহাড়ি পথটাও একসময় দৃষ্টি সীমা থেকে বিদায় নেয়।
বোবা অন্ধকারেও মায়াহ্রদের আয়নায়
অস্পষ্ট প্রতিবিম্বটা স্পষ্ট হয়ে উঠে,
বিভৎস হয়ে উঠে।
আমি এগিয়ে যাই
মায়াহ্রদের তীরের সন্ধানে,
পেছনে পড়ে থাকে সেই
অভিমানী মেঘ, অভিমানী পথ।

১৮.০৫.০৭