ইদানিং পত্রিকা হাতে নিলে মূল পাতার সংবাদগুলো তেমন একটা পড়তে ইচ্ছে করে না। মাঝে মধ্যে গরম কিছু ঘটলে মূল পাতার সংবাদ মনযোগ দিয়ে পড়ি। তেমন গরম কিছু চোখে না পড়ায় আজ সকালে প্রথম আলো হাতে নিয়েই সব পাতা বাদ দিয়ে প্রজন্ম ডট কম পাতায় চলে গেলাম। ছোট্ট একটা ছবির ক্যাপশনে চোখ আটকে গেলো-কিউবা-তে এখন থেকে ব্যাক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করা বৈধ করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান রাউল ক্যাস্ট্রো সম্প্রতি এ ঘোষনা দিয়েছেন। খবরটা শুনে রীতিমতো অবাকই হলাম। এ কেমন কথা? একুশ শতকে একটি দেশে পিসি কেনা যাবে না! ইন্টারনেটে এ নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে দেখলাম শুধু কম্পিউটারই নয়…মোবাইল, ডিভিডি প্লেয়ার সহ প্রায় সব ধরনের প্রযুক্তি পন্যের উপরেই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে নিজের একটি ব্যাক্তিগত কম্পিউটার কিনতে পারলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ মিলছে না। শুধুমাত্র কিছু অনুমোদিত অফিস এবং নির্দিষ্ট সাংবাদিক ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।

যাই হোক এ খবরে কিছু প্রশ্ন মাথায় আসলো। সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার পুঁজিবাদী দেশের পন্য বর্জনের মানসিকতা নতুন কিছু নয়। তবে কম্পিউটারের উপরেও নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে তা কখনও কল্পনা করিনি। সমাজতন্ত্রের প্রতি অনেকেরই একটা দূর্বলতা আছে। আমার নিজেরও একসময় আগ্রহ ছিল। তবে একসময় মেকি মনে হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আলেক মাওলাদের বই বেশি পড়া হয়নি বলে আমার জানারও বেশ সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু এভাবে একটি দেশের জনগণকে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার ব্যাপারটা বোধগম্য হলো না। এ ধরনের কট্টর সমাজতন্ত্র একটি দেশের উন্নয়নের পক্ষে কতোটা ইতিবাচক? সত্যি কথা বলতে কি এ ধরনের অধিক কট্টর মানসিকতা দেখলে তান্ত্রিকদের মৌলবাদীদের চেয়ে আলাদা করতে পারি না…

09.05.08