বিপ্রতীপের রোজনামচা…
ঢাকা থেকে গতকাল বিকেলে এসে পৌছালাম। ঢাকা ছেড়ে আসার প্রায় দেড়মাস পর ঢাকা গিয়েছিলাম। অনেকদিন ধরে মনটা কেমন করছিলো…একবার ঢাকা যাই। বিশেষ কোন উপলক্ষ্য না থাকায় সুযোগটা হয়ে উঠছিলো না। দু’দিনের অফ এর দু’দিনের ছুটি নিয়ে রীতিমতো নাচতে নাচতে ঢাকা গেলাম। ভিজতে ভিজতে মেসে গিয়ে উঠলাম। নিজের টেবিলটায় যে টেবিলটায় গত পাঁচটা বছর আমার অভাবে ধূলো জমেনি…বসতে ইচ্ছে হলো না…ধূলো জমছে জমুক না…। হল ছাড়ার সময় কেনা ভারী জাজিমে গড়াগড়ি করেই সন্ধ্যা পার…তারপর খাবার শেষে নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম। সকালে উঠেই ছুটলাম কাজে। দুপুরে কাজ শেষ হতেই একবার মনে হলো আজই ফিরে যাই…। যে ঢাকা ছেড়ে যাবার সময় মনটা আকুঁপাকুঁ করছিলো সেই ঢাকা চব্বিশ ঘন্টার কম সময়ে বিরক্ত লাগছে! যাই হোক ইতোমধ্যে দু’জনকে কথা দিয়েছি বিকেলে দেখা হবে। চাচার বাসায় দুপুরের খাবার শেষ করে ছুটলাম টিএসসিতে। পরীক্ষা শেষ করে আইবিএ থেকে হাসিমুখে বের হয়ে এলো তপু। ব্যাটা মহানন্দে আছে…আইবিএ-এর প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলছে।এরই মাঝে মানচুর ফোন…দোস্ত তুই কই? ডাসের কাছাকাছি পৌছাতেই মানচু হাজির। ভাবলাম বুয়েট ঘুরেই যাই…। বুয়েটের কাছাকাছি পৌছে মনে হলো অনেকদিন দুলাল ভাইয়ের স্যুপ খাওয়া হয়না। আর হলের ভেতরে ঢুকতে ইচ্ছে হলো না। হলের যে রুমটাতে চব্বিশ ঘন্টা থাকতে ভালো লাগতো ছেড়ে আসার পর ফেলে আসা কিছু জরুরী জিনিস নিয়ে আসা ছাড়া আর যাইনি। হলে গেলেও রুমটাতে ঢুকতে ইচ্ছে করতো না। আজও ইচ্ছে হলো না। মেসে ফেরার পথে জগন্নাথ হলে তমালের সাথে দেখা করলাম। এই কাজটা না করলে খুব অন্যায় হতো। মেসে ফিরে খেয়েদেয়ে আইপিএল-এর ম্যাচ দেখতে দেখতে দিলাম ঘুম। সকালে উঠেই আবার বাসে চাপলাম…।

আমার আজকাল ব্যাতিক্রম কিছু পছন্দ হয় না। মনে হয় কিছুদিন পরে পায়ে শেকড় গজাবে। আজ সকালটা অন্যরকম। তাই যথারীতি আজকের সকালটাও ভালো লাগলো না। ঘড়ির কাঁটা দশটা ছুঁতে না ছুঁতেই প্রতিদিন রেষ্ঠাহাউসের রুমটা অগ্নিকুন্ড হতে শুরু করে। অথচ আজ সূর্যের চোখ রাঙানি নেই। উল্টা আকাশের মন খারাপ। জানালায় হাত বাড়ালেই মেঘ…কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি। সেই মেঘটা আমার ভালো লাগলো না। সেই মেঘটা কারো সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার উপায় নেই… চারপাশের সবাই খুব ব্যস্ত।
ছবিঃCaught in the Rain (ইন্টারনেট থেকে)
প্রকাশকালঃ 10 May 2008 06:20 am 1 টি মন্তব্য



সীমাবদ্ধ এই বৈচিত্রহীন জীবন থেকে বের হয়ে আসার আকুতি কম বেশী সবারই আছে, কিন্তু কল্পনার সাথে বাস্তবকে যে মেলাতে পারিনা আমি…বাস্তব যে খুব রূঢ়।