নির্বাচনের দিনে হাজার মাইল দূরে বসে লেখা একখানা দিনপঞ্জি …
দেশে এখন ভোটগ্রহন চলছে দেশে। প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়া স্বত্তেও ভোট দিতে পারছি না দেশের বাইরে থাকার কারনে।দেশে ফোন দিলাম এক মামাতো ভাইকে। আমার থেকে কয়েক মাসের বড়। ছেলেবেলায় বিভিন্ন উৎসবে আমরা একই রঙের জামা-কাপড় কিনতাম। এখন অবশ্য দুরত্ব তৈরি হয়েছে, দেখা সাক্ষাত কম হয় বলে। বেচারা আমার চেয়ে অনেক অনেক সহজ সরল। ফোন ধরেই বলে, আজকে তো আমাদের দেশে ইলেকশন, জানস নাকি? ঝাঁড়ি দিয়ে বললাম, ব্যাটা, এইটা কি শুধু তোর দেশ নাকি? দেশে ইলেকশন আর আমি জানবো না মানে? বেচারা চুপসে গেল! (একা একা প্রথম ভোট দাও, এইবার বোঝ মজা)
বড়দিনের ছুটি হলেও, একটা জরুরী রিপোর্ট লেখার কাজ বাকী। কিন্তু একফোঁটাও মনযোগ বসছে না। আগের দুটি সংসদ নির্বাচনে রাত জেগে ফলাফল দেখেছিলাম। এবার সেই আমেজটুকু অনুপস্থিত, তবু প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি। নির্বাচনের খবর জানতে ইন্টারনেট ছাড়া কোন উপায় নেই। আমার ব্লগ আর আরেকটা সাইটের কল্যানে দুটি বাংলা চ্যানেল লাইভ দেখতে পারছি।
এইবার আমাদের সমবয়সী অনেক বুঝদার (আমাদের অঞ্চলে কাবিল প্রকৃতির মানুষদের ‘বুঝদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়) পোলাপান ঢালাওভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারনা করেছে। বিষয়টির মাঝে কেমন যেন ডিজুস ডিজুস গন্ধ পেয়েছি। ‘না’ ভোট দেয়ার মানুষেরা বলছেন, কোন যোগ্য প্রার্থী নেই, সব চোর। খুবই ভালো কথা। বন্ধুবান্ধব (যারা ‘না’ ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে) কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কে কে দাঁড়িয়েছে? বেশির ভাগই বড় দুটি দলের বাইরে কারো নাম ঠিকঠাক বলতে পারলো না! অথচ তারা ঢালাওভাবে ‘না’ ভোট দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। সুতরাং, তাদের এই সচেতনতার (?) ফাঁকফোকরে এবারও প্রচলিত নেতারাই নির্বাচনের বৈতরনী পার হবেন মনে হয়। কারন, ধোলাইকৃত মস্তিস্কের মানুষেরা ‘না’ ভোট নিয়ে মাথা ঘামাবে না। তারা ঠিকই নিজেদের মার্কাতে সিল মারবে। তাই এ নিয়ে এক জায়গায় একটি ব্লগও লিখেছিলাম এখানে। অনেকে অবশ্য বলেছে, এখন ‘না’ ভোট নিয়ে লাফালাফি করলেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিল মারার আগে বেশীর ভাগই মতামত পরিবর্তন করবে, ‘না’ ভোট দেবে না। অপেক্ষাকৃত যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দেয়ার চেষ্টা করবে।
আজ প্রথম আলো-তে ড. জাফর ইকবালের একটি কলাম পড়লাম, বেশ ভালো লাগলো। এই মানুষটাকে বেশ শ্রদ্ধা করি। কারন- অন্যদের মতো কথার মারপ্যাঁচে যান না, দাঁতভাঙ্গা শব্দ ছাড়াই সোজাসাপ্টা কথা বলেন। ‘না’ ভোটের ব্যাপারটাতেও তার অবস্থান বেশ ভালো লেগেছে। আসনভেদে ‘না’ ভোট সঠিক সিদ্ধান্ত সঠিক হতে পারে, তবে ঢালাওভাবে না। সবশেষে তিনি বলেছেন, এবার নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা। তিনি আশা করেন, এবার যুদ্ধাপরাধীদের ‘না’ বলবে বাংলাদেশের তরুন সমাজ। কথাগুলো কিছুদিন আগে বললেও আমাদের বয়সী অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারতো এবারের নির্বাচন নিয়ে। আজ অনেকেই ভোট দিয়ে আসার পর পত্রিকা খুলবে, অনেকে খুলবে না। আজ চোখ বেশি থাকবে টিভিপর্দায়।
আমি জেগে জেগে ঘুমাই। অবসর সময়ে ব্লগে হাতি ঘোড়া মারি। ব্লগীয় রাজাকারদের মাইনাস দিয়ে আত্মতৃপ্তি খুঁজি, ভাবি যাক কিছু একটা করলাম। বুকে মানচিত্র আঁকা টি-শার্ট পড়ে ভাবি, আমি মস্ত দেশপ্রেমিক। বিজ্ঞাপনের ভাষায়- আমার চেয়ে কে ভালোবাসতে পারে এই দেশটাকে। প্রচলিত রাজনীতিবিদদের চেয়ে আমি কম ভন্ড নই। শুধু নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে হাজার মাইল দূরে বসেও তবু আজ আশা করছি, যারা একাত্তরে দেশমাতৃকার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদেরকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার গ্লানি থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ। যে হাতগুলো এখনও খামছে ধরে আছে লাল-সবুজের পতাকা, সূর্যের বদলে এঁকে দিতে চাইছে অপপাকিস্থানী চাঁদ-তারা সেই হাতগুলো আজ ভেঙ্গে যাক একে একে…
জাফর ইকবালের কলামটি পড়তে পারেন এখানে।
প্রকাশকালঃ 29 Dec 2008 12:31 pm 4 টি মন্তব্য



ভালো লিখেছিস।
ধুর ইরতিভাই! ঘুম আসতাছে না…তাই হুদাই গ্যাজাইতাছি…
আরে না। আমার মনের কথা বলেছিস। এই না ভোট দিয়ে আরো কিছু যোগ করি।
আমি না ভোট দেবার কঠোর বিপক্ষ। না ভোট যুক্তি কি সেটা এখনো বুঝলাম না। এটা কি একটা প্রতিবাদের ভাষা? আমি আমার এলাকায় না ভোট দিয়ে প্রতিবাদ জানালাম?
গণতান্ত্রিক দেশে ভোট একটা সাধারণ মানুষের বড় অস্ত্র। দেশের মানুষ দুর্নীতি শোষনের জবাব দেয় ভোটের মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশন বলেছে কোন আসনে ৫১% ভাগ ভোট “ না ভোট” হলে সকল প্রার্থী বাতিল হয়ে যাবে। এবং পরে পুনরায় ভোট হবে।
বাংলাদেশে নির্বাচন একটা ব্যয়বহুল পদ্ধতি। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে নির্বাচন করাতে নিরাপত্তা এবং আনুষঙ্গিক খরচ অনেক মিলিয়ে বিরাট অর্থ খরচ হয় । একটি সংসদ আসনে নির্বাচন বাতিল হয়ে পুনরায় নির্বাচন হলে যে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে সেই বিরাট পরিমাণ অর্থ কে দেবে? আপনার আমার মত সাধারণ জনগণ দেবে। আমরা আমাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত ইনকাম থেকে ট্যাক্স দিব আর সেই ট্যাক্সের টাকা দিয়ে নির্বাচন কমিশন না ভোটের ধুনা তুলে একই আসনে দুই দুইবার নির্বাচন করাবে। এটা কি গ্রহণযোগ্য হল?
আচ্ছা তারপর ধরলাম, আমার এলাকার কোন প্রার্থী পছন্দ হয়নি তাই আমি না ভোট দিব। কিন্তু এমন কি নির্বাচন কমিশন কোন আইন পাশ করেছে যে না ভোটে নির্বাচনের কোন আসন বাতিল হলে সেই দলের সেই সকল প্রার্থীরা পুনরায় ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবে না? না এমন কোন নীতিমালা নাই। তার মানে যেই লাউ সেই কদু। সেই একি প্রার্থী আবার একি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে না ভোট দেবার যুক্তি কি?
ইরতিভাই,
কাবিলদের এইটা কে বুঝাবে? বুঝাইতে গিয়া উল্টা ‘আতেঁল’, ‘আমলীগ’ এই জাতীয় গালি খাইছি কয়েকজনের কাছে…