দেখলাম ‘স্লামডগ মিলিওনার’…

প্রাককথন…
শুরুতেই বলে নেই ইহা কোন চলচ্চিত্র সমালোচনা নয়,একটি সাধারন দর্শক প্রতিক্রিয়া মাত্র। ঠিক বোদ্ধা দর্শক বলতে যা বোঝায় আমি তা নই। অনেক ফালতু মুভি দেখেও কেন যেন আত্মবিশ্বাসের সাথে মাথা ঝাকাঁতে ঝাঁকাতে বলতে পারি না, এই ছবির চিত্রনাট্য বেশ দুর্বল, অমুক জায়গায় আরো ভালো করতে পারতো, তমুক জায়গায় পরিচালক ব্যাটা কাঁচা কাজ করেছে। যাই হোক,প্যাঁচাল বাদ দিয়ে এবার আসল কথায় আসা যাক।ভারতের মুম্বাইয়ের এক বস্তির ছেলে জামাল মালিকের কোটিপতি হবার গল্পে নির্মিত ব্রিটিশ চলচ্চিত্র ‘স্লামডগ মিলিওনার’। বেশকিছুদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় এই ছবিটি নিয়ে বেশ হইচই লক্ষ্য করেছি। প্রথমে ভেবেছিলাম ভারতীয় গল্প বলে শুধু উপমহাদেশেই লাফালাফি বেশি নাকি,পরে দেখলাম না। শুনলাম এই ছবির মিউজিকের জন্য প্রথম ভারতীয় হিসেবে এ আর রহমান গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসও পেয়েছেন। আবার অনেকে অস্কার দৌড়েও এগিয়ে রাখছেন ছবিটিকে। অস্কার পেতে পারে বা পেয়েছে এমন শুনলে আমি অবশ্য তেমন সাহস পাই না। অস্কারপ্রাপ্ত ছবির বেশির ভাগ দেখতে বসলেই আমার কেন জানি ঘুম আসে। গতকাল রাতেও ঘুম আসছিলো না, তাই ‘স্লামডগ মিলিওনার’ দেখতে বসা।
কাহিনী কি?
ছেলেবেলায় বস্তিতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় চোখের সামনে মারা যান জামাল এবং সেলিমের মা। দুই ভাই পালিয়ে বেঁচে যায়। তাদের সাথে পরিচয় হয় ছোট্ট মেয়ে লতিকার। এই তিনজনই ছবির প্রধান তিন চরিত্র। ঘটনাচক্রে লতিকা হারিয়ে যায়। শিশুকাল থেকেই লতিকার প্রতি জামালের অন্তরে গভীর প্রেম। ছবির শেষ দৃশ্যে কলসেন্টারে চা-ওয়ালা হিসেবে কর্মরত জামাল সব বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে কৌন বোনেগা ক্রোড়পতির সুবাদে কোটিপতি হবার পাশাপাশি তার শিশুকালের প্রেম লতিকাকে ফিরে পায়।
[কাহিনীর সাদামাঠা বর্ননা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। যারা দেখেননি তাদের মজা নষ্ট করতে চাই না ]

অবশেষে জামাল খুঁজে পেলো লতিকাকে…
কলাকুশলীরা…
এই ছবির পরিচালক ড্যানি বয়েল।লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত ‘দ্য বীচ’ ছাড়া তার পরিচালিত তেমন কোন ছবির নামই আগে শুনিনি। তাও ‘দ্য বীচ’ দেখিনি,শুধু নাম শুনেছি। টাইটানিক ঝড়ের পর লিওনার্দো আর কেট কাশি দিলেও পত্রিকাওয়ালারা ছেপে দেয়, সেই সূত্রেই ছবির নামটা শোনা।‘স্লামডগ মিলিওনার’ ছবিতে জামাল চরিত্রে অভিনয় করেছেন লন্ডনে বড় হওয়া ১৮ বছর বয়সী দেব প্যাটেল, আর লতিকার চরিত্রে ভারতীয় মডেল ফ্রিদা পিন্টো । এছাড়াও অভিনয় করেছেন অনিল কাপুর, ইরফান খান, মহেশ মাঞ্জেয়কার প্রমুখ।
কেমন লাগলো?
আগেই বলেছি সমালোচনা লিখছি না। তবে ‘স্লামডগ মিলিওনার’ দেখার পর মনে হলো আমার মতো সাধারন দর্শকদের জন্য হইচই ফেলে দেয়ার মতোই একটি ছবি। কোথাও একঘেঁয়ে লাগেনি,কাহিনীতে গতি ছিল। কিছু কিছু জায়গায় বেশ মজাও পেয়েছি। অমিতাভ বচ্চনকে দেখার জন্য শিশু জামালের বিষ্ঠায় লাফ দেয়ার দৃশ্যটি ছাড়াও পর্যটকদের কাছে তাজমহলকে সে যেভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তা দেখে বেশ মজা পেয়েছি। মমতাজ নাকি রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছিলেন! সবমিলে আমার কাছে বেশ ভালোই লেগেছে। যারা এখনও দেখেননি, তারা সময় সুযোগ হলে দেখে নিতে পারেন। আশা করি, ভালোই লাগবে…
[লেখাটি সচলায়তনে প্রকাশিত]
প্রকাশকালঃ 19 Jan 2009 01:10 am 4 টি মন্তব্য



amio dekhehi. bhalo lagse
অমিতাভ…:P কইয়া যেই লম্ফ খান দিলো…এরপর আর ভালো না লাইগা যাইবো কই।
@মানচু,
পিচ্চিটা আসলেই চমৎকার অভিনয় করেছে…”অমিতাভ” বলে লাফ দেয়ার দৃশ্যটা আসলেই মনে রাখার মতো
সর্বমোট ৮ টি শাখায় অস্কার পেল স্লামডগ মিলিওনার
Best Picture
Best Director
Adapted Screenplay
Best Cinematography
Best Original Score
Best Original Song
Best Sound Mixing