বাউল গানের জীবন্ত কিংবদন্তী শাহ আবদুল করিম…
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ৯৪ তম জন্মদিন। কালনীর তীরে বেড়ে উঠা বাউল শাহ আব্দুল করিমের গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহুরে মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় মাত্র কয়েক বছর আগে কিছু রিমিক্সের বদৌলতে। তার লেখা গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এমন শিল্পীর সংখ্যাও কম নয়। অনেক সময় তার লেখা গান অনেকে ‘সংগৃহীত’ বলেও চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ আছে।
বাংলা উইকিতে বাউল শাহ আব্দুল করিম সম্পর্কে বাংলায় কোন নিবন্ধ না থাকায় বিভিন্ন সাইট থেকে কিছু ইংরেজি তথ্য বাংলায় অনুবাদ করেছি। হাতে সময় না থাকায় তাড়াহুড়ো করে হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই তুলে দিলাম। ব্যস্ততা কমলে ঘষামাজা করে যুক্ত করে দেব বাংলা উইকিতে।
বাংলা বাউল গানের এই জীবন্ত কিংবদন্তীর জন্মদিনে অনেক অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা…

জন্মঃ
বাউল গানের জীবন্ত কিংবদন্তী শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বাউল শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা।তিনি তাকে আদর করে ডাকতেন ‘সরলা’। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে।
সংগীত সাধনাঃ
স্বল্পশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন।কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। সাম্প্রতিককালে এ সময়ের বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।
প্রকাশিত বইঃ
বাউল শাহ আবদুল করিমের এ পর্যন্ত ৬টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে।বইগুলো হলো- আফতাব সংগীত, গণ সংগীত, কালনীর ঢেউ, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে এবং দোলমেলা।
শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় কিছু গানঃ
• মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
• আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
• গাড়ি চলে না
• আমি কূলহারা কলঙ্কিনী
• কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
• কোন মেস্তরি নাও বানাইছে
• কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
• বসন্ত বাতাসে সইগো
• আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
• মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপঙী নাও
• আমি তোমার কলের গাড়ি
• সখী কুঞ্জ সাজাও গো
• জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে
• মানুষ হয়ে তালাশ করলে
• আমি বাংলা মায়ের ছেলে
সম্মাননাঃ
বাউল শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন।বাংলা একাডেমি তার দশটি গানের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে।এছাড়া দ্বিতীয় সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এই বাউল সম্রাটকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।এছাড়াও ২০০০ সালে কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরি পদক পান।বাউল সাধক শাহ আবদুল জীবনের একটি বড় অংশ লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সাথে। বর্তমানে বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেও তা যথেষ্ঠ নয়।উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তার সম্মানে ‘জীবন্ত কিংবদন্তীঃ বাউল শাহ আবদুল করিম’ নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তার জনপ্রিয় ১২ টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। এই অ্যালবামের বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ তাঁর বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়।
বহিঃসংযোগঃ
http://www.shahabdulkarim.tk/
http://www.thedailystar.net/2006/05/18/d605181401121.htm
http://en.wikipedia.org/wiki/Shah_Abdul_Karim
ছবিসূত্রঃ
ফেসবুকের বাউল শাহ আবদুল করিম গ্রুপ থেকে সংগৃহীত।
[ইন্টারনেটের গতি ভালো থাকলে ইউটিউব থেকে প্রায় ৫ মিনিটের 'কালনী থেকে টেমস' নামের এই প্রামাণ্যচিত্রটি দেখতে পারেন। এর শেষদিকে শাহ আবদুল করিমের নিজের কন্ঠে গাওয়া একটি গানের কিছু অংশ আছে।]
লেখাটি সচলায়তনে প্রকাশিত
প্রকাশকালঃ 17 Feb 2009 12:06 am 2 টি মন্তব্য



matir manush tini, ganer manush tini, sohoj manush tini, ashol manush tini
ধন্যবাদ ফয়সাল…