ঘুরে এলাম নায়াগ্রা…
লন্ডন থেকে নায়াগ্রা খুব কাছে, মাত্র আড়াই ঘন্টার পথ। এই লন্ডন কিন্তু ইংল্যান্ডের লন্ডন নয়। কিছুদিন আগে ফেসবুকে কয়েকজন জিজ্ঞেস করেছে, আমি কানাডা ছেড়ে লন্ডনে কি করি…। যাই হোক, যাবো যাবো করে নানান ঝামেলায় আর নায়াগ্রা যাওয়া হয়ে উঠছিল না। এই সপ্তাহে লং উইকেন্ড থাকাতে আমি আর আমার সুপারভাইজারের আরেক ছাত্র মিলে ঠিক করলাম রবিবার নায়াগ্রা ঘুরে আসবো। এখান থেকে নায়াগ্রা যাবার সবচেয়ে সস্তা উপায় হচ্ছে ক্যাসিনোর বাসে যাওয়া…তবে সমস্যা হচ্ছে ঘুরার জন্য হাতে মাত্র ৫ ঘন্টা সময় পাওয়া যায়।
***
সকালে বাসে উঠার সময় ড্রাইভার পাসপোর্ট দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার বার্থ ডেট কোথায় লেখা…দেখালাম। ক্যাসিনোর বাস নায়াগ্রা পৌছানোর পর নিয়ম হচ্ছে, ক্যাসিনোতে প্লেয়ার কার্ড করাতে হয়, তখন ওরা ৫ ডলার রেখে বাকী ১০ ডলার ফেরত দেয়। বাস থেকে নেমে ক্যাসিনোতে ঢুকার পথে আইডি চেক করতে আবার থামালো, তোমার বয়স কত? আমি বললাম। তিন/চার বার পাসপোর্ট উল্টে পাল্টে ব্যাটার সন্দেহ যায় না। বলে, আর কোন আইডি আছে সাথে? ভার্সিটির আইডি দিলাম…সেখানে বার্থ ডেট লেখা নেই…পরে অনিচ্ছার সাথে বললো, যাও। ক্যাসিনোর ভেতরের পরিবেশ এই প্রথমবারের মতো দেখলাম…ভেতরে শত শত জুয়ারি। দেখে যা মনে হলো বুড়ো বুড়িদের সংখ্যাই বেশি।
ঘড়িতে তখন দুপুর দেড়টা, ব্যাপক ক্ষিদে পেয়েছে। ক্যাসিনোর ভেতরে একটা রেস্টুরেন্ট আছে। ভাবলাম সেখানেই লাঞ্চটা সেরে বের হই। ঢুকতে গেলাম, এক বেটি আবার আইডি দেখার জন্য আটকালো। গেলো মেজাজটা বিগড়ে…বললাম, আইডি না দেখিয়ে ক্যাসিনোতে ঢুকলাম ক্যাম্নে…রেস্টুরেন্ট ঢুকতে আবার আইডি লাগে ক্যান? এবার মহিলা উত্তর দিল, আহা! রাগ করছো কেন…এইটাকে তুমি প্রশংসা হিসেবে নাও…তোমাকে তোমার বয়সের চেয়েও কম মনে হয়…এইটা তো ভালু ![]()
ভেবেছিলাম জলপ্রপাত দর্শনের আগে হালকা আখের রস খাবো, সেই সাহস আর হলো না…আবার যদি ওয়েটারও আইডি দেখতে চায়। আখের রসের বদলে আপেলের রস অর্ডার করলাম লাঞ্চের সাথে। লাঞ্চ সেরে আর নড়তে চড়তে ইচ্ছে করছে না। টুরিস্ট স্পটে সব ধরনের ব্যবস্থাই থাকে। দু’ডলারের বিনিময়ে পাহাড় বেয়ে বিশেষ ধরনের যানে শর্টকাটে নিচে নামিয়ে দিলো… অল্প হাঁটতেই বহুল আকাঙ্খিত নায়াগ্রার একদম কাছাকাছি…

একটু পরেই অসাধারন এক দৃশ্য চোখে পড়লো… মেইড অব দ্য মিস্ট ঘিরে রঙধনু…এই দৃশ্যটা আমার এই জীবনে দেখা হাতেগোনা সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোর একটি…আমার সাদামাঠা ক্যামেরায় সেই দৃশ্যটা ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি…ভালো হয়নি, তবু এই ছবিটা পিপিদাকে উৎসর্গ করলাম…

নায়াগ্রা ঘুরতে গিয়ে কেউ যদি মেইড অব দ্য মিস্ট এ না উঠেন তাহলে নায়াগ্রা দেখাটাই বৃথা। নায়াগ্রাকে ঠিকঠাক অনুভব করতে হলে একবার অন্তত মেইড অব দ্য মিস্ট এ উঠা উচিত। অবশ্য ট্যাকে উপযুক্ত পরিমান ডলার থাকলে হেলিকপ্টারে করেও নায়াগ্রা অনুভব করা যায়।
ক্যামেরা ভিজছিল… তবু জলপ্রপাতের কাছ থেকে কিছু ছবি তোলার চেষ্টা করেছি…
***
ফেরার পথে বাসে উঠার পর এক বুড়ি গোমড়া মুখে জিজ্ঞেস করে, জিতছো নাকি? আমি কইলাম, না…আমি তো খেলিই নাই। এবার আমি উল্টো জিজ্ঞেস করলাম, জিতছো নাকি? বুড়ি বলে, না…আসলে প্রথম দিকে জিততেছিলাম…শেষে। এই সুযোগে হালকা পাতলা লেকচার ঝেড়ে দিলাম, …জেতা শুরু করলে মানুষ আরো জিততে চায়…এরপরই হারতে থাকে… এইটাই ক্যাসিনোর নিয়ম…
প্রকাশকালঃ 06 Aug 2009 12:23 am 1 টি মন্তব্য









chhobi gulo ki je sundor………….
konodin jaoya hobe kina jani na.
e vabei hoyto ses hoye jabe din.